
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ দিনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ১৪৫ রোগী। এ চিত্র শুধু সরকারি হাসপাতালের। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগীরা এ হিসাবের বাইরে রয়েছেন। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।
চলতি বছরে আক্রান্ত ১৩ হাজার ১৩২
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত চলতি বছরে বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩ হাজার ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪২১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮৭ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪ জন।
পিরোজপুরে বেশি আক্রান্ত
বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে পিরোজপুরে। এরপর রয়েছে ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও বরিশাল। পিরোজপুরে এ বছর এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪০৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। মারা গেছেন একজন।
ঝালকাঠিতে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩২৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। মারা গেছেন একজন।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭২ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৬৭ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৩ জন। মারা গেছেন দুইজন।
শেবাচিমে মৃত্যু ২০
বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ২০ জন।
হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫২৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭০ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৮ জন।
বরিশাল জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬ জন।
গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপে থাকা বরগুনায় এ বছর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৬৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৬৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৭ জন। ভোলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯১ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৪৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৭ জন।
১৫ দিনে গড়ে ২১০ রোগী ভর্তি বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রেফায়াতুল হায়দার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
