
ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হিমছড়ির ভাঙার মোড় এলাকার এক্সোটিকা সাম্পান সংলগ্ন সৈকতে জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগর উত্তাল থাকায় প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন পর্যটক ভেসে যেতে থাকেন। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নাফিসুর রহমান নিবিড়সহ দুজন নিখোঁজ হন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় লোকজন, লাইফগার্ড, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল অভিযান শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভাঙার মোড় এলাকায় নাফিসুর রহমান নিবিড়ের মরদেহ ভেসে ওঠে।
এর আগে বুধবার তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন, ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মোকাররম হোসেনের ছেলে আল মাহিবুল ইবনে মোকাররম ওরফে রোহান (২৩), দক্ষিণখান এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে সাইফুল হক ওরফে জিসান (২৩) এবং উত্তরার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে নাফিসুল হক (২২)।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয় মোহাম্মদ হারুনের (২০) মরদেহ। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার শেরশাহ জামতলা এলাকার মোহাম্মদ কবিরের ছেলে।
জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, ডুবে যাওয়ার স্থানের কাছাকাছি সকালে স্থানীয় লোকজন একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সেটি উদ্ধার করেন। সন্ধ্যায় আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে হিমছড়ি সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, উদ্ধার করা মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
