আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন অর্থাৎ ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলাসহ পুরো খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাপপ্রবাহের তীব্রতার মধ্যেই দেশের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া ১৬ এপ্রিল দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আগামী ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পূর্বাভাসের তৃতীয় দিন থেকে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে শুরু করতে পারে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ২৯ শতাংশ, যা শুষ্ক আবহাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সোমবার ঢাকায় সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে। ৫ দিনের বর্ধিত আবহাওয়ার অবস্থায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস আরও উল্লেখ করেছে যে, তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে যেখানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ সক্রিয় রয়েছে। তবে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।